সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
নিম্নে ঝুঁকি-ভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং সরকারি খাতে নিরীক্ষকের স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন এবং উত্তর রয়েছে:
রিস্ক-বেসড ইন্টারনাল অডিট (RBIA)-এর ইতিহাস একটি বৈশ্বিক আমূল পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে, যা মূলত লেনদেন-ভিত্তিক গতানুগতিক 'চেকার' বা পরীক্ষকের মানসিকতা থেকে সরে এসে একটি সক্রিয় ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি বর্তমানে এন্টারপ্রাইজ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (ERM)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ঝুঁকি-ভিত্তিক এই পদ্ধতিগুলো ১৯৯০-এর দশকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, যখন 'কমিটি অফ স্পনসরিং অর্গানাইজেশনস অফ দ্য ট্রেডওয়ে কমিশন' (COSO) তাদের 'ইন্টারনাল কন্ট্রোল-ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক' প্রবর্তন করে। এই ফ্রেমওয়ার্কটি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রধান উপাদান হিসেবে ঝুঁকি মূল্যায়নের (Risk Assessment) গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। বর্তমানে বিভিন্ন ERM ফ্রেমওয়ার্ক যেমন—COSO ERM, ISO 31000, NIST রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (RMF), RIMS রিস্ক ম্যাচিউরিটি মডেল এবং COBIT (Control Objectives for Information and Related Technologies) ইত্যাদির মাধ্যমে RBIA বিভিন্ন খাতে একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সরকারি খাতের প্রেক্ষাপটে, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম অল্প কিছু মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় (MDAs) বিদ্যমান থাকলেও তা মূলত ছিল নিয়ম-পালন বা কমপ্লায়েন্স-ভিত্তিক। ২০০৯ সালের 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন' পাসের পর এই বিবর্তনে গতি সঞ্চার হয়, যা সরকারকে প্রথাগত তদারকি ব্যবস্থা থেকে আধুনিক ও পদ্ধতিগত মূল্যায়নের দিকে নিয়ে যায়। বর্তমানে 'স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট' (SPFMS) সংস্কার কর্মসূচির আওতায়, বাংলাদেশ সরকার অধিক ব্যয়বহুল মন্ত্রণালয়গুলোতে সক্রিয়ভাবে রিস্ক-বেসড ইন্টারনাল অডিট (RBIA) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করছে। এর উদ্দেশ্য হলো পুরনো আমলের 'পোস্ট-মর্টেম' বা ঘটনা-পরবর্তী নিরীক্ষার পরিবর্তে এমন 'ভ্যালু-অ্যাডেড' বা মান-উন্নয়নকারী মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, যা জনসেবা বা সরকারি তহবিলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রশমন করতে পারে।


